প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। তবে সম্প্রতি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে থাকা বেশ কয়েকটি টুথপেস্টে, এমনকি শিশুদের জন্য তৈরি কিছু টুথপেস্টেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই টুথপেস্টের বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। দন্তবিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্টই দাঁতের ক্ষয় রোধ ও ক্যাভিটি প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর। তবে প্রয়োজন হলে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান সীমিত পরিসরে ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো কখনোই দীর্ঘমেয়াদে টুথপেস্টের বিকল্প নয়।
বেকিং সোডা
বেকিং সোডা বা সোডিয়াম বাইকার্বনেট দাঁতের ওপর জমে থাকা চা, কফি বা খাবারের দাগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রাশ ভিজিয়ে সামান্য বেকিং সোডা ব্যবহার করা যায়, অথবা অল্প পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করেও দাঁত মাজা যায়। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে।
নারিকেল তেল
অনেকেই ‘অয়েল পুলিং’ পদ্ধতিতে নারিকেল তেল ব্যবহার করেন। কয়েক মিনিট মুখে তেল রেখে কুলকুচি করার পর ফেলে দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে মুখের দুর্গন্ধ কমানো এবং মুখ পরিষ্কার রাখতে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।
লবণ
লবণ দীর্ঘদিন ধরেই ঘরোয়া উপায়ে দাঁত পরিষ্কারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি কিছু ব্যাকটেরিয়া কমাতে সহায়ক হলেও নিয়মিত ব্যবহার দাঁতের এনামেল ও মাড়ির ক্ষতি করতে পারে। তাই এটি কেবল প্রয়োজন হলে সীমিতভাবে ব্যবহার করা উচিত।
লেবু ও লবণের মিশ্রণ
দাঁতের দাগ দূর করতে কেউ কেউ লেবুর রস ও লবণের মিশ্রণ ব্যবহার করেন। তবে লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড দাঁতের সুরক্ষামূলক এনামেল ক্ষয় করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা এটি নিয়মিত ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন।
আপেল সিডার ভিনেগার
অল্প পানির সঙ্গে মিশিয়ে কুলকুচি করা গেলেও এটি অ্যাসিডিক হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যবহার দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ব্যবহার করলে পরে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া উচিত।
অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল দিয়েও অয়েল পুলিং করা যায়। এটি মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে দাঁত সাদা করার কার্যকর উপায় হিসেবে এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পর্যাপ্ত নয়।
দন্তচিকিৎসকদের মতে, এসব প্রাকৃতিক উপাদান মুখের পরিচ্ছন্নতায় সহায়ক হলেও এগুলোর কোনোটিই ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্টের পূর্ণ বিকল্প নয়। দাঁতের ক্ষয়, ক্যাভিটি প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদে দাঁতের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, ভেরি ওয়েল হেলথ
/এএসএফ