ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের বিমান হামলার পরপরই পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। ২০২২ সালের পর দুই পক্ষের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সীমান্ত-পার সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় চার বছর ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার দাবি, হামলার আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে তার সমর্থন চান। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পও এ পদক্ষেপে সমর্থন দিয়েছেন।বর্তমান উত্তেজনার সূচনা হয় প্রায় ১০ দিন আগে। সে সময় ইরানের মাহান এয়ারের একটি বিমান হুথি প্রতিনিধিদল নিয়ে সানায় অবতরণ করে। সৌদি আরবের অভিযোগ, এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে হুথিদের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হতে পারে।
তবে হুথিরা এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।সোমবার ইরান থেকে ফেরার পথে একই বিমানটি সানার উদ্দেশে গেলে সৌদি বাহিনী বিমানবন্দর এলাকায় হামলা চালায়। হামলার কারণে বিমানটি গন্তব্য পরিবর্তন করে আল হুদাইদাহ শহরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।এর জবাবে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করলে শুধু ইয়েমেন নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাও আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
/বিএসএস