মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় মার্কিন সামরিক সদস্য ও ঠিকাদারদের অবস্থান শনাক্ত করতে ইরান আঞ্চলিক মোবাইল নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস (এফটি)। এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মোবাইল সার্ভেইল্যান্স মনিটর’ গবেষণা প্রকল্পের টেলিযোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এফটি জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে ইরান বা তাদের মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কের রোমিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।
এফটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মোবাইল রোমিং ব্যবস্থা এবং স্মার্টফোনভিত্তিক বিজ্ঞাপনের তথ্য সামরিক সদস্যদের অবস্থান প্রকাশ করে তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, ইরান বা তাদের সহযোগীরা স্থানীয় মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে থাকা রোমিং চুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে মার্কিন কর্মীদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করতে বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহযোগ্য বিজ্ঞাপনভিত্তিক তথ্যভান্ডারেরও অপব্যবহার করেছে।
সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক গ্যারি মিলার, যিনি এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন, এফটিকে বলেন, ইরানের কাছে “রিয়েল-টাইম, তাৎক্ষণিক এবং নিরবচ্ছিন্ন অবস্থান তথ্য পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মার্কিন ব্যবহারকারীদের নজরদারির জন্য ইরান যদি এসএস৭ প্রযুক্তি বা আঞ্চলিক মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ ব্যবহার না করে থাকে, তাহলে আমি খুবই অবাক হব।”
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক, রোমিং প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল তথ্যের ব্যবহার নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্তে এসব প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
/এএসএফ