• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম


বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, তবু ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন হালান্ড

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুলাই ২০২৬ ৫:১৪ পিএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে সাফল্য-ব্যর্থতার ব্যবধান অনেক সময় মাত্র একটি ম্যাচ। এখানে মুহূর্তেই নায়ক খলনায়কে পরিণত হন, আবার শিরোপা না জিতেও কেউ কেউ ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন। ট্রফি কিংবা গোল্ডেন বুট সবার ভাগ্যে জোটে না, তবে কিছু ফুটবলার তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়েই একটি আসরকে স্মরণীয় করে রাখেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ঠিক তেমনই একটি নাম।

রোববার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে হালান্ডের দুর্দান্ত গোলযাত্রাও। টুর্নামেন্টে ৭ গোল করা এই স্ট্রাইকারের আর গোল বাড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াই থেকেও ছিটকে গেছেন তিনি। অন্যদিকে সেমিফাইনালে ওঠা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে ইতোমধ্যে ৮টি করে গোল করে এগিয়ে রয়েছেন। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট এখন আর হালান্ডের নাগালে নেই।

তবে গোলসংখ্যার এই সামান্য ব্যবধান কোনোভাবেই হালান্ডের বিশ্বকাপকে ম্লান করতে পারে না। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ, কিন্তু পারফরম্যান্সে সেই অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। প্রথম ম্যাচ থেকেই গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্লাব ফুটবলের মতো জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি সমান ভয়ংকর।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দারুণভাবে চাপে রেখেছেন হালান্ড। শক্তি, গতি, উচ্চতা এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সমন্বয়ে প্রতিটি ম্যাচেই তিনি ছিলেন নরওয়ের সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক অস্ত্র। ডিফেন্ডারদের সঙ্গে তার প্রতিটি লড়াই ছিল রোমাঞ্চকর, আর গোলের সামনে সুযোগ পেলেই ছিলেন নির্মম।

তার করা সাতটি গোলের প্রতিটিরই ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্য। কোথাও দুর্দান্ত হেড, কোথাও গতিময় স্প্রিন্টের পর নিখুঁত ফিনিশিং, আবার কোথাও এক স্পর্শেই গোলরক্ষককে পরাস্ত করেছেন তিনি। পুরো বিশ্বকাপে গোল করার শিল্পকে যেন নতুনভাবে তুলে ধরেছেন এই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড।

তবে এবারের বিশ্বকাপে তার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে শেষ ষোলোর ম্যাচে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়েকে খুব কম মানুষই এগিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত করেন হালান্ড। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারানো দলের তালিকায় নিজের নাম লেখায় নরওয়ে।

সেই ঐতিহাসিক জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন হালান্ড। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি শুধু গোলই করেননি, প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছেন, সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করেছেন এবং প্রয়োজনের সময় ম্যাচের গতিও বদলে দিয়েছেন। আধুনিক ফুটবলে একজন পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকারের যে বৈশিষ্ট্য, তার প্রায় সবই দেখা গেছে হালান্ডের খেলায়।

প্রথম বিশ্বকাপেই সাত গোল করার কীর্তি এমনিতেই বিরল। আরও বিরল হলো এমন ধারাবাহিকতা, যা একজন ফুটবলারকে অভিষেক আসরেই বিশ্বের সেরা গোলদাতাদের কাতারে নিয়ে যায়। এই বিশ্বকাপে গোলের হিসেবে তার ওপরে রয়েছেন শুধু মেসি ও এমবাপ্পে, যারা এখনও সেমিফাইনালে খেলবেন। নরওয়ের বিদায়ের কারণে হালান্ডের ব্যক্তিগত লড়াইটাও সেখানেই শেষ হয়ে গেছে।

ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ব্যক্তিগত অর্জন অনেক সময় দলের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে। নরওয়ে যদি আরও এক ধাপ এগোতে পারত, তাহলে গোল্ডেন বুটের হিসাবও ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু নকআউট ফুটবল দ্বিতীয় সুযোগ দেয় না।

তবুও এই বিদায়ে হতাশার চেয়ে গর্বের কারণই বেশি। কারণ হালান্ড দেখিয়ে দিয়েছেন, নরওয়ে আর শুধু সম্ভাবনাময় দল নয়; তারা এখন বড় বড় শক্তির সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারে। আর সেই আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় প্রতীক তাদের ২৫ বছর বয়সী এই গোলমেশিন। গোল্ডেন বুট হয়তো এবার তার হাতে উঠবে না, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ তাকে এমন একটি স্বীকৃতি দিয়েছে, যা অনেক ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়েও মূল্যবান। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর নামগুলোর একটি হয়ে থাকবেন আর্লিং হালান্ড।

/এসএন