• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম


‘এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে’—ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহীম রেজায়ী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৪ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান ও ইরানকে ধ্বংসের হুমকির জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই পিছু হটতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহিম রেজায়ি লেখেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের সামনে কেবল দুটি পথ খোলা আছে—হয় তিনি আত্মসমর্পণ করবেন, নয়তো আত্মসমর্পণ করতেই হবে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একাধিকবার বলেছেন, মার্কিন হামলায় ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে একই সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যদিও এ ধরনের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর আবারও ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার ওমান উপকূলে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী গুলি চালিয়েছিল। এর জবাবে মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর গবেষক আব্বাস আসলানি মনে করেন, বর্তমান সংঘাত মূলত উভয় পক্ষের শক্তি ও প্রতিরোধক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে, যাতে তেহরানকে এমন কিছু শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা যায়, যা অতীতে ইরান কখনো গ্রহণ করেনি।

আব্বাস আসলানির মতে, ইরানের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তার ভাষায়, আগের পাল্টা জবাব যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন হামলা থেকে বিরত রাখতে যথেষ্ট ছিল না। তাই এবার তেহরান ‘সংঘাত কমানোর উদ্দেশ্যে সংঘাত তীব্র করার’ কৌশল নিয়েছে, যাতে প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে ইরানের ওপর হামলার মূল্য কতটা বড় হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে ইরান তার প্রতিরোধ আরও কঠোর করতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এএসএফ