বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালকে আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে চীনে রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আশা, চীনের বিশাল বাজারে কাঁঠাল রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া আসনের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি সাম্প্রতিক বিদেশ সফর এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছুদিন আগে চীন সফরে গিয়ে আমরা একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমাদের দেশের কাঁঠাল অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং চীনের মানুষও এটি খুব পছন্দ করে। ইনশাআল্লাহ আমরা এই দেশ থেকে তাদের কাছে কাঁঠাল রপ্তানি করব।”
তিনি বলেন, চীনে কাঁঠালের বড় বাজার তৈরি করা সম্ভব হলে দেশের কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি রপ্তানি আয়ও বাড়বে।
বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদাহরণও দেন। তিনি জানান, চীন সফরের আগে মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে জানান, মালয়েশিয়া প্রতিবছর শুধু চীনেই প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুরিয়ান রপ্তানি করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুরিয়ান দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের কাঁঠালের মতো। মালয়েশিয়া যদি দুরিয়ান রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশও কাঁঠাল রপ্তানির মাধ্যমে একই ধরনের সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এ সময় সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে লেবু, আনারস ও কাঁঠাল উৎপাদনের বিষয়টি তুলে ধরে সেখানে একটি কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন গড়ে তোলার দাবি জানান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে ওই এলাকায় আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলেও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তার অভাবে সেটি পরে বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া সব মিল-কারখানা, বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। যদিও বর্তমানে ফুলবাড়ীয়া এলাকায় নতুন কোনো শিল্পাঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই, তবে আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাটি কীভাবে আবার চালু করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
/এসএন