• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম


চরফ্যাশনে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা, তলিয়ে গেছে ফসল ও মাছের ঘের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ জুলাই ২০২৬ ১:৩৪ পিএম

বৈরী আবহাওয়া ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী-সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানি প্রবেশ এবং বৃষ্টির পানি জমে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে উত্তাল নদীর বড় বড় ঢেউ বেড়িবাঁধে আছড়ে পড়ায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের একটানা বৃষ্টিতে উপজেলার চরমানিকা, চরমাদ্রাজ, আসলামপুর, জাহানপুর, হাজারীগঞ্জ, নীলকমলের বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট ও নজরুল নগরসহ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা এবং চর নিজাম এলাকা জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এসব এলাকার বসতভিটা, মাছের ঘের, ফসলি জমি, খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি আটকে রয়েছে, ফলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক স্থানে গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগির খামারও পানিতে ডুবে গেছে।

টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীবিকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে জমিতে পানি জমে থাকায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির শাকসবজি এবং ১৭০ হেক্টর জমির আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, জলাবদ্ধতায় মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ায় ২১৮ হেক্টর এলাকার ৩ হাজার ৬৭১টি ছোট-বড় খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

এদিকে দুর্যোগের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বেতুয়া থেকে হাজারীগঞ্জ পর্যন্ত বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসরত ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। তিনি দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের এই খাদ্য সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসরত ছিন্নমূল পরিবারগুলোর কষ্টের কথা জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা কাজ করতে না পারায় অনেকেই চরম সংকটে পড়েছেন। সে কারণে প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্গত পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, ডাল, লবণ, চিনি, তেল এবং হলুদ, মরিচ ও জিরার গুঁড়া বিতরণ করা হয়েছে।

/এসএন