কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পৃথক চারটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া একজন আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
ক্যাম্প প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাত ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
এর আগে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড়ধস হয়। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।
এদিকে রাত পৌনে ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত একরাম একই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে।
এ ছাড়া রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, দিনভর ভারি বৃষ্টির পর রাতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রথমে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। পরে ডিএমসি কমিটির মাধ্যমে ১১ নম্বর ক্যাম্পে আরও একটি পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়। সেখানে স্থানীয় লোকজন চারজনকে উদ্ধার করলেও তারা সবাই মারা যান।
তিনি আরও জানান, ১৫ নম্বর ক্যাম্পে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে ফায়ার সার্ভিস এবং একজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। এছাড়া ডিএমসি সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, ১১ নম্বর ক্যাম্পে চারজন এবং ৭ নম্বর ক্যাম্পে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
/এএসএফ