• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম


মেসিকে টপকে বিশ্বকাপে সবার ওপরে ইরানি তারকা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ জুন ২০২৬ ১০:২৭ এএম

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকাদের তালিকায় যেখানে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড কিংবা হ্যারি কেইনের মতো নামগুলোই সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সেখানে ফিফার পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করে চমক সৃষ্টি করেছেন ৩৬ বছর বয়সী ইরানি রাইট-ব্যাক রামিন রেজায়িয়ান।বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি এই র‍্যাংকিংয়ে রেজায়িয়ান অর্জন করেছেন ১৯.৯৩ পয়েন্ট।

তার ঠিক পেছনেই রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি, যার সংগ্রহ ১৯.৮৬ পয়েন্ট।বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স নির্ধারণের জন্য খেলোয়াড়দের আক্রমণ, সৃজনশীলতা এবং রক্ষণভাগ—এই তিনটি বিভাগে শূন্য থেকে দশের স্কেলে রেটিং দেওয়া হয়। সেই তিন বিভাগের সম্মিলিত স্কোরের ভিত্তিতেই তৈরি হয় এই পাওয়ার র‍্যাংকিং।নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের ২-২ গোলে ড্র করা ম্যাচে রেজায়িয়ানের পারফরম্যান্সই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও ওই ম্যাচে তিনি প্রায় একজন প্লে-মেকারের ভূমিকায় খেলেন। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলে তিনি নিজে একটি গোল করেন, পাশাপাশি দলের দ্বিতীয় গোলেও অ্যাসিস্ট করেন।সেই ম্যাচে আক্রমণে তার রেটিং ছিল ৬.৭৬, সৃজনশীলতায় ৮.২৩ এবং রক্ষণে ৪.৯৪। আক্রমণাত্মক অবদান ও অসাধারণ সৃজনশীলতার কারণেই তিনি মেসির চেয়ে ০.০৭ পয়েন্ট এগিয়ে যেতে সক্ষম হন।উত্তর ইরানের মাজান্দারান অঞ্চলে জন্ম নেওয়া রেজায়িয়ান বর্তমানে এস্তেগলালের চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়। তবে তিনি ধারে খেলছেন স্থানীয় ক্লাব ফুলাদে। ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় কোনো এক ক্লাবে স্থায়ী না হলেও ইরানের বড় বড় ক্লাবগুলোর হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

দেশটির জনপ্রিয় তিন ক্লাব পার্সিপোলিস, সেপাহান এবং এস্তেগলালের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন তিনি। এছাড়া বিদেশের মাটিতে বেলজিয়ামের কেভি ওস্টেন্দে এবং কাতারের আল-শাহানিয়া, আল-দুহাইল ও আল-সাইলিয়ার হয়েও খেলেছেন।যদিও তার পরিচয় একজন ডিফেন্ডার হিসেবে, ক্যারিয়ারের বড় একটি সময় তিনি উইঙ্গার বা ফরোয়ার্ড হিসেবেও খেলেছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আক্রমণ চালাতে তিনি বরাবরই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।২০১৫ সালে ইরানের জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার পর এটি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে পর্তুগালকে প্রায় বিদায়ের মুখে ঠেলে দেওয়া ইরান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। পরে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত এক চিপ শটে গোল করে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।ওয়েলসের গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ডের মাথার ওপর দিয়ে নেওয়া সেই শটটি আজও ইরানি ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করার পর তার সেই মর্যাদা আরও শক্তিশালী হয়েছে।ইরানের ফুটবল অঙ্গনে রেজায়িয়ানকে সবাই চেনেন ‘শোম্যান’ হিসেবে। মাঠে শুধু কার্যকর ফুটবল নয়, নান্দনিকতা ও নাটকীয়তাও যোগ করতে পছন্দ করেন তিনি। ফ্রি-কিক, গোল উদযাপন কিংবা প্রতিপক্ষকে উস্কে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার স্বতন্ত্রতা রয়েছে।

২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার মাঠের লড়াইয়ের একটি ঘটনা বেশ আলোচিত। পরে হাস্যরসের ছলে রেজায়িয়ান জানিয়েছিলেন, ম্যাচ চলাকালে তিনি রোনালদোকে বলেছিলেন, ‘তোমার যদি ভালো না লাগে, তবে সাইড পরিবর্তন করে অন্য পাশে গিয়ে খেলো।’ ঘটনাটি তিনি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গর্বের সঙ্গেই স্মরণ করেন।তবে এই পাওয়ার র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকার অর্থ এই নয় যে রেজায়িয়ানকে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করা হয়েছে কিংবা তিনি মেসির চেয়েও বড় তারকা হয়ে গেছেন।

বরং এটি একটি ম্যাচভিত্তিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের প্রতিফলন।তবু ৩৬ বছর বয়সে, ইউরোপের কোনো শীর্ষ ক্লাবে না খেলেও এবং বিশ্ব ফুটবলের আলোচিত তারকাদের কাতারে না থেকেও তিনি যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তা এমবাপ্পে, হালান্ড কিংবা অন্য অনেক মহাতারকার পক্ষেও সম্ভব হয়নি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এমন দৃশ্যপট কল্পনা করেছিলেন খুব কম মানুষই।

/বিএসএস