• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ এএম


পায়ে হেঁটে ওটিতে গিয়েছিলেন মাইশা, সিজারের পরই মৃত্যু

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:৩৮ পিএম

বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই নাজিয়া রহমান মাইশা (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচার কক্ষে বমি করার পর মাইশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বমি করার সময় শ্বাসনালিতে খাবার আটকে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মাইশার পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। নিহত মাইশা নগরীর কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত মো. নাজমুর রহমান বাদলের মেয়ে। তিনি একজন উদীয়মান উদ্যোক্তা ছিলেন।

স্বজনেরা জানান, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রার ডা. তহুরা আক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাইশা। পরে তার পরামর্শ অনুযায়ী সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাইশার একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। স্বজনদের ভাষ্য, সন্তান জন্মের পরপরই অস্ত্রোপচার কক্ষে মাইশার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

মাইশার স্বামী হাফিজ আহমেদ বলেন, “যে মানুষটা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকল, সেই মানুষটা সেখান থেকে কীভাবে মৃত হয়ে বের হয়? চিকিৎসকের অবহেলায় এমন মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো নয়।”

মাইশার স্বজন সাজ্জাদ হোসেন নয়ন অভিযোগ করেন, মাইশা স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে অপারেশন থিয়েটারে গিয়েছিলেন। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে বমি করতে শুরু করেন। নয়নের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক রোগীর পাশে ছিলেন না। স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর তিনি অন্য রোগীর কাছে চলে যান। হাসপাতালের চারটি অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বে ডা. সোহেল মিয়া একাই ছিলেন বলেও দাবি করেন নয়ন।

তার আরও অভিযোগ, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ডা. তহুরা আক্তারের অসাবধানতার কারণেও মাইশার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

নয়নের দাবি, মাইশার মৃত্যুর পর বিষয়টি আড়াল করতে তাকে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মাইশার মৃত্যু হয়েছে।

তবে রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সাহিল আহমেদ সাকিব বলেন, শ্বাসনালিতে খাবার আটকে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

সাকিবের ভাষ্য, মাইশাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকেরা স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন। পরে স্বজনেরা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের অনুরোধ করেন। এরপর ডা. তহুরা আক্তার অস্ত্রোপচার শুরু করেন। অস্ত্রোপচার শেষে মা ও সন্তান দুজনই ভালো ছিলেন।

তিনি বলেন, পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটে নেওয়ার পর হঠাৎ মাইশার রক্তচাপ কমতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি তিনবার বমি করেন। তখন সাকার দিয়ে তার মুখের ভেতর থেকে বমি পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

সাকিব আরও বলেন, “আইসিইউ থেকে জানতে পেরেছি, বমি করার সময় শ্বাসনালিতে খাবার আটকে শ্বাসরোধ হয়ে মাইশার মৃত্যু হয়েছে।”

এদিকে ঘটনার পর থেকে ডা. তহুরা আক্তার ও ডা. সোহেল মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মাইশার স্বজনেরা। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তিনি পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসএন