ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের নানা রাজনৈতিক বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকির কারণে টুর্নামেন্টকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। এরই মধ্যে ফিফার কাছে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সরকার জানিয়েছে, স্টেডিয়ামে ইরানের সরকারি বা অনুমোদিত পতাকা ছাড়া অন্য কোনো পতাকা প্রদর্শন করা হলে কিংবা জাতীয় দলকে লক্ষ্য করে অপমানজনক স্লোগান দেওয়া হলে ইরান ম্যাচ চলাকালেই খেলা বন্ধ করে দিতে পারে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালি মঙ্গলবার ফিফাকে এ বিষয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে ইরানের কোনো ম্যাচ চলাকালে যদি স্টেডিয়ামে অননুমোদিত পতাকা প্রদর্শন করা হয় অথবা জাতীয় দলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়, তাহলে দলের ম্যানেজার ম্যাচ থামাতে বাধ্য থাকবেন।
বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ম্যাচ হিসেবে ধরা হচ্ছে ইরান ও মিশরের লড়াইকে। এ বিষয়ে আহমদ দুনিয়ামালি জানান, তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না।
শুধু পতাকা বা স্লোগানের বিষয়েই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে সমকামিতা-সংক্রান্ত প্রচারণা নিয়েও ফিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে ইরান। এ ক্ষেত্রে তারা মিশরের সমর্থন পেয়েছে। আগামী ২৬ জুন সিয়াটলে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ইরান ও মিশরের।
কাকতালীয়ভাবে ওই সপ্তাহেই সিয়াটলে স্থানীয় সমকামী সম্প্রদায়ের ‘প্রাইড উইকেন্ড’ অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে স্থানীয় আয়োজকেরা ম্যাচটিকে ‘প্রাইড ম্যাচ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তবে ইরান ও মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে ফিফার কাছে দাবি জানিয়েছে, ওই ম্যাচে কোনো ধরনের সমকামিতা-সম্পর্কিত প্রচার কিংবা রংধনু রঙের প্রতীকী কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া যাবে না।
এদিকে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে ইরানের ওপর। গত এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসের বাইরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, জাতীয় দলটি সাধারণ ইরানি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং এটি ইরানের সামরিক বাহিনী আইআরজিসির প্রভাবাধীন।
রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ করা সব টিকিট বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বহু ইরানি সমর্থক, যারা খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন, তারা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এসব ঘটনা টুর্নামেন্টকে মাঠের খেলার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
/এসএন