ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে জয়ের আনন্দের পাশাপাশি ম্যাচের একটি রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ গোল উদযাপনের সময় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে থিয়াগো আলমাদার নেওয়া একটি শটের রিবাউন্ড থেকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। গোলের পর উচ্ছ্বাসে তিনি মাঠের পাশের বিজ্ঞাপনী বোর্ড টপকে গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মাঝে চলে যান।
এর আগে ম্যাচের ৯৮তম মিনিটে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন মার্তিনেজ। ফলে গোল উদযাপনের সময় আরেকটি হলুদ কার্ড পেলে তা লাল কার্ডে পরিণত হতো এবং তিনি আগামী ১৪ জুলাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলতে পারতেন না।
ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ল অব দ্য গেমস অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় গোল উদযাপনের সময় দর্শকসারির বেষ্টনী বা প্রতিবন্ধক টপকে যান কিংবা এমন আচরণ করেন যা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে, সেক্ষেত্রে তাকে সতর্কবার্তা (হলুদ কার্ড) দেওয়া যেতে পারে।
তবে ম্যাচের রেফারি লাউতারো মার্তিনেজকে এ ঘটনায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখাননি। ফলে তিনি লাল কার্ড এড়িয়ে যান এবং সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ ধরে রাখেন।
এই সিদ্ধান্তের পর ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, একই ধরনের ঘটনায় অতীতে অনেক খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও এবার কেন ব্যতিক্রম হলো।
এ ঘটনাকে ঘিরে টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে বলে সমালোচিত কয়েকটি রেফারিং সিদ্ধান্তও আবার আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের মতে, উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় লিওনেল মেসি কার্ড পাননি। এছাড়া কয়েকটি ভিএআর ও ফাউল-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও আর্জেন্টিনার অনুকূলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ম্যাচ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
/এএসএফ