• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম


বিশ্বকাপ থেকে ফিরেই বীরের সংবর্ধনা পেল মিশর দল!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুলাই ২০২৬ ৮:০৭ পিএম

বিশ্বকাপ থেকে হৃদয়ভাঙা বিদায় নিলেও দেশের মানুষের কাছে জাতীয় বীরের মর্যাদা পেয়েছেন মিশরের ফুটবলাররা। নিজেদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দেশে ফিরে রাজকীয় সংবর্ধনা পেয়েছে দলটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরে মিশর জাতীয় ফুটবল দল। ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। জাতীয় পতাকা, দেশাত্মবোধক গান এবং ‘মিশরের ছেলেরা আমাদের গর্বিত করেছে’ লেখা ব্যানারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেক সমর্থকের হাতেই ছিল অধিনায়ক মোহামেদ সালাহর ছবি, যার নিচে লেখা ছিল ‘ধন্যবাদ।’

বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে নিউ আলামেইন শহর প্রদক্ষিণ করেন ফুটবলাররা। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন তারা। আগামীকাল খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি।

চারবার অংশ নেওয়ার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে জয় পায় মিশর। শুধু তাই নয়, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতেও জায়গা করে নেয় আফ্রিকার দেশটি। গ্রুপপর্বে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর সেরা ৩২-এর লড়াইয়ে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে নতুন ইতিহাস গড়ে তারা।

তবে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক লড়াইয়ের পর বিদায় নিতে হয় হোসাম হাসানের দলকে। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় মিশর। তবুও দেশের ফুটবল ইতিহাসে সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ায় দেশে ফিরেই বীরের মর্যাদা পেয়েছে পুরো দল।

সংবর্ধনায় উপস্থিত অনেক সমর্থকের হাতে ছিল প্রধান কোচ হোসাম হাসানের বড় পোস্টার, যা ফিলিস্তিনের পতাকায় মোড়ানো ছিল। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানোয় তাকে এভাবে সম্মান জানান সমর্থকেরা।

মিশরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম হাসান টুর্নামেন্ট চলাকালে একাধিকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন এবং সংবাদ সম্মেলনেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দেন।

এদিকে দল দেশে ফেরার আগেই হোসাম হাসান এবং তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ নবায়ন করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। যদিও নতুন চুক্তির আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন তারা।

২০২৪ সালে মিশরের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন হোসাম হাসান। এরপর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে দলটির চেহারা। তার অধীনে ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে ওঠার পাশাপাশি আট বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় মিশর। এই কোচের অধীনে এখন পর্যন্ত ২০টি ম্যাচে জয় পেয়েছে দলটি এবং ৯টি ম্যাচ ড্র করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এএসএফ