• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ এএম


ব্রাজিল–নরওয়ে লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী? যা বলছে অপটা সুপার কম্পিউটার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৮ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডকে সামলানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাসে এগিয়ে রাখা হয়েছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে।

অপটা ২৫ হাজারবার ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল সিমুলেশন চালিয়ে যে হিসাব দিয়েছে, তাতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে জয় পেয়েছে ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অর্থাৎ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ।

শুধু ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনাই নয়, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাতেও এগিয়ে রয়েছে সেলেসাওরা। অপটার হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিলের শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। শেষ ষোলোর ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে ব্রাজিল। একমাত্র ব্যতিক্রম ১৯৯০ সালের আসর, যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১–০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

অন্যদিকে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামছে নরওয়ে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২–১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পায় তারা। সেই ম্যাচে জয়সূচক গোল করেন আর্লিং হালান্ড।

জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন হালান্ড। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫। ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করতে পারলে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করার বিরল রেকর্ড গড়বেন তিনি। ১৯৯৮ সালে ইতালির ক্রিশ্চিয়ান ভিয়েরির পর প্রথম ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার।

হালান্ডের পেছনে সৃজনশীল শক্তি হিসেবে রয়েছেন মার্টিন ওডেগার্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করা আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ ম্যাচেও অ্যাসিস্ট করতে পারলে নতুন রেকর্ড গড়বেন।

অবশ্য নিজেদের শেষ ম্যাচে খুব স্বস্তিদায়ক ফুটবল খেলতে পারেনি ব্রাজিল। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোলে ২–১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নেয় আনচেলত্তির দল। ওই ম্যাচে ব্রাজিলের প্রথম গোলটি করেন অভিজ্ঞ কাসেমিরো।

মাঝমাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান ব্রুনো গিমারায়েসও। মার্টিনেল্লির জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যা চারটিতে উন্নীত করেন তিনি। ১৯৬৬ সালের পর এক বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এর চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট রয়েছে কেবল কিংবদন্তি পেলের, যিনি ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

তবে আক্রমণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকতেই পারে ব্রাজিল শিবিরে। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচে তারা গড়ে ম্যাচপ্রতি ১৫টি শট নিয়েছে, যা ১৯৯৮ সালের পর তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে নরওয়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা রক্ষণভাগ। চলতি বিশ্বকাপে চার ম্যাচেই তারা যেমন গোল করেছে, তেমনি প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনহার মতো দ্রুতগতির আক্রমণভাগের বিপক্ষে এই দুর্বলতা ভোগাতে পারে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটিকে।

তবে মুখোমুখি পরিসংখ্যান ব্রাজিলকে পুরোপুরি স্বস্তি দিচ্ছে না। দুই দলের আগের চার দেখায় দুই জয় ও দুই ড্র নিয়ে অপরাজিত রয়েছে নরওয়ে। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়েছিল ভাইকিংরা।

এ ছাড়া ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক রেকর্ডও হতাশাজনক। ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর ইউরোপের দলের বিপক্ষে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা। সেই হতাশার অধ্যায় শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নামবে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

/এসএন