মতামত
লেখক: আতিক ইউএ খান, সাবেক মেরিন অফিসার
মরক্কো প্রমাণ করে দিল গত ওয়ার্ল্ড কাপ এর সেমিতে খেলা কোন ফ্লুক ছিল না।
কানাডা কিন্তু কোন সহজ প্রতিপক্ষ না। স্বাগতিক দেশ, স্টেডিয়াম ভর্তি ৬০-৬৫ হাজার দর্শক গলা ফাটাচ্ছে। তার উপর কানাডা খেলছিল আক্রমণাত্মক শরীর নির্ভর ফুটবল। প্রথমার্ধেই ফাউল করেছিল ১৫টা। তাতে মেজাজ হারিয়ে আশরাফ হাকিমিসহ মরক্কোর ৪ জন প্লেয়ার হলুদ কার্ড পান।
এছাড়াও কানাডা কর্ণার পেয়েছে ১১টা আর গোলে শট নিয়েছে ১০টা। কিন্তু ফিনিশারের অভাবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পক্ষান্তরে মরক্কো পালটা আক্রমণ করে গোলবারে শট নিয়েছিল মাত্র ৪টা, তার ৩টিই গোল।
প্রথমার্ধে চমৎকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল কানাডা কিন্তু ১ম গোলটা খাওয়ার পর এলোমেলো হয়ে যায়। নিজেদের ডিফেন্স খোলা রেখে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে কাউন্টার এটাকে বাকি দুইটা গোল হজম করেছে।
দলের মূল স্ট্রাইকার সাইবারি আহত হলেও ওনাহি, রহিমি কিংবা হাকিমিরা সেই অভাব পূরণ করেছেন। তিন গোলের দুইটাই করেছেন ওনাহি।
পরের ম্যাচ ফ্রান্সের সাথে কোয়ার্টার ফাইনাল মোটামুটি নিশ্চিত। এই ম্যাচে অবশ্য ফ্রান্স ফেভারিট থাকবে৷ তবে মরক্কোকে আপনি উড়িয়ে দিতে পারবেন না। তারা নেদারল্যান্ডস এর মত টুর্নামেন্ট ফেভারিটকেও বিদায় করে দিয়েছে৷ তার উপরে মরক্কোর উপরের প্লেয়ারদের মায়েদের দোয়ার আলাদা রহমতও আছে।
মরক্কোর সাথে আছি। মুসলিম দেশগুলোর সফলতা আনন্দদায়ক। ওরা কেমন মুসলিম সেই বিচারে আবার বসে যাইয়েন না। আমরা অনেক জাজমেন্টাল জাতি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আগে চিন্তা করেন, আপনি কেমন মুসলিম?
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে সরাসরি সংগ্রহিত)