• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ এএম


জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস, দেশজুড়ে ছুটি ঘোষণা ইকুয়েডর প্রেসিডেন্টের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ জুন ২০২৬ ১১:৪৫ এএম

বিশ্বকাপে ২০ বছর পর আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইকুয়েডর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই কীর্তি গড়ে দলটি। ঐতিহাসিক এই জয়ের আনন্দে পরের দিনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট নোবোয়া খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, “সমালোচনা, অপমান ও কঠিন সময় পেরিয়ে যারা ঘুরে দাঁড়িয়ে পুরো দেশকে আনন্দ উপহার দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ। আগামীকাল ছুটি। ইকুয়েডর দীর্ঘজীবী হোক।”

ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ইকুয়েডর। দ্বিতীয় মিনিটেই জার্মানিকে এগিয়ে দেন লেরয় সানে। তবে গোলটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, গোলের আগে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ইকুয়েডরের মিডফিল্ডার পেদ্রো ভিতেকে উঁচু বুটে আঘাত করেছিলেন। ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা ফাউলের দাবি জানালেও রেফারি টোরি পেনসো গোল বহাল রাখেন। ভিএআরও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি।

তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরে ইকুয়েডর। সাত মিনিট পর বল দখল করে আক্রমণ সাজান পেদ্রো ভিতে। নিলসন আঙ্গুলোর নেওয়া দূরপাল্লার শট পাভলোভিচের পায়ের ফাঁক গলে জালে জড়ায়। এই গোলই ছিল চলতি বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল। টুর্নামেন্টে তাদের ৪০তম শট থেকে আসে এই সাফল্য।

দ্বিতীয়ার্ধে আবারও নাটকীয়তা দেখা যায়। কাই হ্যাভার্টজকে বক্সে ফাউল করা হয়েছে দাবি করে জার্মানি পেনাল্টির আবেদন জানায়। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে সানে ফাউল করেছিলেন। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

৬৪ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন কেভিন রদ্রিগেজ। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে কর্নার থেকে তার হেড ফ্লিক পেয়ে গনজালো প্লাতা কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ইকুয়েডরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ইকুয়েডরের বেঞ্চ।

বাকি সময় সমতায় ফেরার জন্য একের পর এক আক্রমণ চালায় জার্মানি। তবে দৃঢ় রক্ষণে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় ইকুয়েডর। শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে আনন্দে লুটিয়ে পড়েন খেলোয়াড়রা, আর গ্যালারিতে উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা।

উল্লেখ্য, জার্মানি এই ম্যাচের আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছিল। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারা ইকুয়েডর বিদায়ের শঙ্কায় ছিল। শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জার্মানিকে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

/এএসএফ