• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম


গুজব থেকে বাঁচতে ইসলামের নির্দেশনা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৫ পিএম

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি ‘গুজব’ নামক এক ভয়ংকর ব্যাধি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ ইসলাম এ প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল ও সচেতন জীবন গড়ার শিক্ষা দেয়।

গুজব বলতে এমন অসত্য বা অর্ধসত্য তথ্যকে বোঝায়, যা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। একজন মুমিনের প্রথম দায়িত্ব হলো—কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচারের আগে তা যাচাই করা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, যদি কোনো অবিশ্বস্ত ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করতে হবে, যাতে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কারও ক্ষতি না হয়।

অনেক সময় আমরা ‘শুনেছি’ বা ‘লোকমুখে প্রচলিত’ এমন কথার ওপর নির্ভর করে তথ্য ছড়িয়ে দিই। অথচ ইসলাম এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, যে বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান নেই, তা অনুসরণ করা যাবে না। কারণ কিয়ামতের দিন মানুষের কান, চোখ ও অন্তর—সবকিছুরই হিসাব নেওয়া হবে।

হাদিসেও এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই যাচাই ছাড়া প্রচার করে। অর্থাৎ সরাসরি মিথ্যা না বললেও, যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়ানোও বড় অপরাধ। এতে অজান্তেই মানুষ মিথ্যার অংশীদার হয়ে যায়।

গুজব থেকে বাঁচার জন্য ইসলাম দুটি সহজ পথ দেখিয়েছে। প্রথমত, সচেতনতা—যে কোনো তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করা। আবেগের বশবর্তী না হয়ে যুক্তি ও সত্যের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা। দ্বিতীয়ত, নীরবতা—যে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না, সে বিষয়ে চুপ থাকা। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে নীরব থাকে, সে নিরাপদ থাকে।

গুজব কেবল একটি ভুল তথ্য নয়; এটি সমাজে বিভক্তি, অবিশ্বাস ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তাই একজন সচেতন মুমিন কখনো গুজবের বাহক হতে পারে না; বরং সে সত্যের প্রচারক হয়। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব—নিজেকে গুজব থেকে দূরে রাখা এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা। তাহলেই গড়ে উঠবে একটি শান্তিপূর্ণ, সুস্থ ও কল্যাণময় সমাজ।