• ঢাকা
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম


ক্যালিফোর্নিয়ায় ঈদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, ছুটির সুযোগ মুসলিম শিক্ষার্থী-কর্মীদের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:১১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সরকারি ছুটির তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে মুসলমানদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ‘এবি ২০১৭’ বিলে স্বাক্ষর করেন। গভর্নরের দপ্তরের প্রকাশিত তালিকাতেও বিলটি ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন আইনে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থীদের ঈদ পালনের জন্য বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতিকে অনুমোদিত অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করার এবং সরকারি কর্মীদের নির্ধারিত নিয়মে ছুটি নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে দুই ঈদ সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলেও এর অর্থ এই নয় যে ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি দপ্তর, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওই দিন বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে বিচারিক ছুটির তালিকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে।

আইনসভায় অনুমোদনের পর গভর্নরের স্বাক্ষর

‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ শিরোনামের ‘এবি ২০১৭’ বিলটি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সান ফ্রান্সিসকোর আইনসভার সদস্য ম্যাট হ্যানি উত্থাপন করেন। বিলটির প্রধান সহ-উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন আইনসভার সদস্য আশ কালরা ও স্টেফানি নগুয়েন এবং সিনেটর আইশা ওয়াহাব। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত হন।

বিলটি বিভিন্ন পর্যায়ের পর ৩০ আগস্ট আইনসভার উভয় কক্ষে অনুমোদিত হয়। ১০ সেপ্টেম্বর এটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয় এবং ২৭ সেপ্টেম্বর গ্যাভিন নিউজম এতে স্বাক্ষর করেন।

নতুন আইনে ইসলামি চান্দ্রপঞ্জিকার শাওয়াল মাসের প্রথম দিনকে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখকে ঈদুল আজহা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে প্রতিবছর ঈদের তারিখ পরিবর্তিত হলেও আইনে উৎসব দুটির স্বীকৃতি বহাল থাকবে।

ঈদ পালনে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির অনুমতি

নতুন আইনে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহা পালনের উদ্দেশ্যে কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে সেটিকে অনুমোদিত বা ‘এক্সকিউজড’ অনুপস্থিতি হিসেবে গণ্য করা হবে।

ফলে ঈদের নামাজ ও অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে যেতে না পারলে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির আইনি স্বীকৃতি থাকবে।

এ ছাড়া স্থানীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সরকারি বিদ্যালয় ও কমিউনিটি কলেজগুলো ঈদের দিন বন্ধ রাখতে পারবে। তবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সমঝোতার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

সরকারি কর্মীরাও পাবেন ছুটির সুযোগ

নতুন আইনে সরকারি কর্মীদের জন্যও ঈদ পালনের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহা উপলক্ষে তাঁরা আট ঘণ্টার ছুটি বা সমপরিমাণ ছুটির সুবিধা নিতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে ছুটির ধরন অনুযায়ী অর্জিত ছুটি, বার্ষিক ছুটি, অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে পাওয়া ছুটি কিংবা ব্যক্তিগত ছুটির সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।

সব সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে না

দুই ঈদ সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও সেদিন ক্যালিফোর্নিয়ার সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়নি। নতুন আইনে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে বিচারিক ছুটির তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। ফলে ঈদের দিন আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে না।

নতুন আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় মুসলমানদের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো। একই সঙ্গে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ঈদ পালনের জন্য অনুমোদিত অনুপস্থিতি এবং সরকারি কর্মীদের নির্ধারিত নিয়মে ছুটি নেওয়ার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

/এএসএফ