জাতীয় সংসদে নিজের জীবিত বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ভুল হয়ে থাকলে দেশের মানুষের কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
গত রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, তার বাবারা সাত ভাই, যার মধ্যে চারজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এছাড়া তার দাদারা ছিলেন ১৯ জন, তাদের মধ্যে ১১ জন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, তার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
তবে ওই বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বিশেষ করে তার নির্বাচনি হলফনামার তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। হলফনামা অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি, অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ১০ বছর পরে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন।
এ তথ্যের পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বাবার সন্তান হতে পারেন।
এছাড়া জানা যায়, তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম বর্তমানে জীবিত রয়েছেন। তারা নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে ছেলের সঙ্গেই বসবাস করছেন।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছিলেন।
তিনি বলেন, “সংসদে কী বলেছি, তা বুঝতে পারছি না। আসলে আমার বাবা বেঁচে আছেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন আমার দাদা ও চাচা। সংসদে ভুল কিছু বলে থাকলে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদে দেওয়া আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি এবং বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে তুলে ধরেছেন।
/এসএন