বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো ‘ভারতীয় দালালদের’ দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবির শিরীষতলায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। সমাবেশটি ২৫ সেপ্টেম্বর আয়োজনের কথা সংগঠনটির পক্ষ থেকেও আগে জানানো হয়েছিল।মামুনুল হক বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বিএনপিতে ‘ঘাপটি মেরে থাকা ভারতীয় দালালদের’ দখলে রয়েছে। সরকার সিন্ডিকেট করে পুরো জ্বালানি খাতকে বাইরের দেশের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, ‘সময় থাকতে সেখান থেকে ফিরে আসুন। অন্যথায় বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না।’২০২৪ সালের ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ তুলে মামুনুল হক বলেন, ওই সময় সব দল সম্মিলিতভাবে শেখ হাসিনা সরকারকে বিদায় করেছিল। তাঁর দাবি, তখন ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ ছিল। হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগ বা ফ্যাসিবাদের পতন হয়নি, বাংলাদেশের মাটি থেকে আধিপত্যবাদের শেকড়ও উপড়ে গেছে।তবে তাঁর অভিযোগ, সরকার জুলাইয়ের সেই ঐক্য নষ্ট করে দিয়েছে।সরকারের উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, তারা বলেছিল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে, প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করবে। একই সঙ্গে পুলিশকে আগের সরকারের মতো দলীয়করণ করা হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।মামুনুল হকের অভিযোগ, সাত মাসের মধ্যেই সরকার এসব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারি করেছেন। ৭০ ভাগ জনগণের সঙ্গে আপনারা তামাশা করেছেন। জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না।’এ সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। তাঁর দাবি, পরাজিত শক্তি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে সীমান্তের ওপার থেকে ষড়যন্ত্র করছে।মামুনুল হক বলেন, এসব অপতৎপরতা মোকাবিলা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, পরাজিত শক্তিকে মোকাবিলা না করে সরকার বিরোধী দলগুলোকে প্রশ্ন করছে, সরকারের সাত মাস না যেতেই কেন তারা লং মার্চের কর্মসূচি দিচ্ছে।জবাবে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা লং মার্চ করার জন্য সাত মাস অপেক্ষা করেছি। কিন্তু আপনারা জুলাইকে অস্বীকার করতে, গণভোটের রায়কে ছুড়ে ফেলে দিতে সাত দিনও অপেক্ষা করেননি।’মামুনুল হকের এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ ও মতামত হিসেবে এসেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাত বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো ‘ভারতীয় দালালদের দখলে’ থাকার দাবির পক্ষে তিনি সমাবেশে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি। অন্যদিকে, সরকারের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ফলাফল পরে জানানো হবে।
/বিএসএস