• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম


সরকার গঠনের সুযোগ পেলে গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের স্বার্থে কাজ করবে জামায়াত: গোলাম পরওয়ার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ জুন ২০২৬ ৮:৩৩ পিএম

সংবাদপত্রের উন্নয়ন এবং সংবাদকর্মীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, “জনগণ ভোট দিয়ে জামায়াতকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে দেশে বাক-স্বাধীনতা রক্ষা, সংবাদপত্রের উৎকর্ষ সাধন এবং সংবাদকর্মীদের স্বার্থরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।”

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ১৬ জুন সরকারি নিয়ন্ত্রণে কেবল চারটি সংবাদপত্র—দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ অবজারভার—চালু রেখে অন্য সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা বাতিল করা হয়।

গোলাম পরওয়ারের মতে, এর মাধ্যমে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মানুষের মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। তিনি ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় হাজার হাজার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। ফলে তাদের পরিবারগুলোকে চরম অর্থনৈতিক সংকট, অনাহার এবং অমানবিক দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারও গণমাধ্যমের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে দৈনিক আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন, সিএসবি টিভি, ইসলামিক টিভি এবং বহু অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে আবারও বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী কর্মসংস্থান হারান।

বিবৃতিতে তিনি ২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেরও সমালোচনা করেন। তার দাবি, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে ওই আইন করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, দেশি-বিদেশি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপের মুখে ২০২৩ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ করা হলেও সেটিও মূলত একই ধরনের আইন ছিল।

গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, এসব আইনের আওতায় বহু সাংবাদিক এবং মুক্তচিন্তার মানুষকে দীর্ঘ সময় বিনাবিচারে কারাভোগ করতে হয়েছে এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিতর্কিত আইনটির কিছু ধারা বাতিল করা হয়েছে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি ও ইসলামিক টিভি পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিবৃতির শেষাংশে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদপত্রকে ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের জনগণ আশা করে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গণতন্ত্র রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।

/এসএন