নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ডের আলোচনা চলার মধ্যেই সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর সঙ্গে এক তরুণীর কথিত ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে দাবি করেছেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের এই সংসদ সদস্য।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজ ও আইডিতে কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি আব্দুল আজিজ বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে। ইন্টারনেটের যুগে নানা ঘটনা নানাভাবে তুলে ধরা যেতে পারে। আমার সুনাম ও সুখ্যাতি নষ্ট করার জন্য এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।”
এদিকে, শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় এমপিপুত্র নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার রাতে নিহত শাকিলের মরদেহ ঢাকার বাইরে থেকে গুরুদাসপুরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার জন্য আনা হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হন।
জানাজায় বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে এমপি আব্দুল আজিজ নিহত শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ সময় আব্দুল আজিজ বলেন, শাকিল হত্যাকাণ্ডে তাঁর ছেলে জড়িত থাকলেও তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। অপ্রত্যাশিত এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর সন্তান জড়িত থাকলেও তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলে জানান তিনি।
শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার বিচার প্রসঙ্গে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, শাকিল হত্যার বিচার সবাই চান। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে, অন্যদেরও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
এমপি আব্দুল আজিজকে ঘিরে কথিত ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এ ঘটনা নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয়। এ বিষয়ে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আব্দুল আজিজ সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
/এএসএফ