• ঢাকা
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম


‘ধৈর্য ধরতে হবে, সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে হবে’: শফিকুর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৭ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সবাইকে শান্ত ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও উপকারী সমাধানে পৌঁছাতে ধৈর্য ধরে উদ্যোগ নিতে হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত জায়গায় ব্যবসার সুযোগ করে দিতে হবে, যাতে তাঁরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। তাঁদের বড়লোক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নেই; পরিবারের জন্য খাবার, পোশাক, চিকিৎসা এবং মাথা গোঁজার একটি জায়গা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই সমস্ত ভাইদেরকে বলব, সমাজ আমাদের সবার। আমরা কেউ শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করব না।’

মিরপুরের সংঘর্ষের সময় সরকারি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে সমর্থন না করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে কিছু সরকারি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে, এটা ভাই ঠিক হয়নি। যানবাহনের কোনো দোষ নাই। দোষ করলে আমি ব্যক্তি করতে পারি, যানবাহন কোনো ব্যক্তির না।’

তিনি বলেন, সরকারি যানবাহনে জনগণের করের টাকাও রয়েছে। এসব যানবাহন ধ্বংস হলে দেশের ক্ষতি হবে এবং সেই ক্ষতির অংশীদার জনগণও হবে।

উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবার জন্য সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের অনুরোধ, সবাই শান্ত থাকবেন। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান আশা করি বের করা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটু ধৈর্য ধরতে হবে সবাইকে। ধৈর্য হারালে কোনো সমাধান নাই। ধৈর্য ধরে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে, যেই প্রচেষ্টা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য, সবার জন্য উপকারী।’

মিরপুরের ঘটনায় মসজিদের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সেখানে মসজিদের একটি সম্পত্তি ছিল, যা সম্ভবত গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে তার ছিঁড়ে দেওয়ার সময় শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেবে। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মসজিদের সম্পত্তির যে ক্ষতি হয়েছে, সেদিকেও নজর দেওয়া উচিত।

শফিকুর রহমান সারা দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতি বন্ধের আহ্বান জানান। বিভিন্ন জায়গায় মদ ও মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এ ছাড়া ঢাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা কঠিন হবে।

প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, প্রশাসন একা সবকিছু করতে পারবে না; তাদের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংগত ও ভালো কাজে প্রশাসন জনগণের সহযোগিতা পাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে প্রশাসন যদি ‘জালিমের ভূমিকা’ পালন করে, তাহলে তাঁরা রুখে দাঁড়াবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলের মতো প্রশাসন অন্যায়ের পক্ষ নিক, সেটি তিনি চান না বলেও জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের লালনের যে নীতি আছে, প্রশাসন যেন এটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।’

শফিকুর রহমান আবারও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কীভাবে সমন্বিতভাবে সমস্যাটির একটি সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘দেশ সবার, দেশ আপনার। দেশ সুন্দর থাকলে আপনি ভালো থাকবেন। দেশ অসুন্দর হলে আপনি-আমি কেউ ভালো থাকব না।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁরা একটি ভালো দেশ চান এবং সেই দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দখলদারি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উচ্ছেদ অভিযানের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মিরপুরের ওই এলাকায় দুটি নির্বাচনী এলাকা রয়েছে—ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬। জনগণ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেছেন এবং তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা দেখাও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, এত বড় একটি অভিযান পরিচালনার আগে তাঁদের সম্পৃক্ত করা হলে শান্তিপূর্ণভাবে একটি ভালো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

ভবিষ্যতে জনকল্যাণে সরকার যেসব উদ্যোগ নেবে, সেগুলোতে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, এতে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়া যাবে এবং বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে।

এর আগে বুধবার সকালে মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের গাড়িও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকজন আহত হন।

উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে শফিকুর রহমান এর আগে বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এরপর উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

/এএসএফ