• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম


‘দেশের বারোটা বাজবে আর আমরা আঙুল চু/ষব, এটা হবে না’—সমাবেশে জামায়াত আমিরের হুঁশি/য়ারি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৪:০২ পিএম

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের বারোটা বাজবে আর আমরা আঙুল চুষব, এটা হবে না।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, দেশের পরিস্থিতি দেখে তার কাছে আরেকটি বিপ্লব আসন্ন বলে মনে হচ্ছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১-দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তার মনে হচ্ছে আরেকটি বিপ্লবের সময় ঘনিয়ে আসছে। এ জন্য তিনি দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পাপের পরিণতি পেতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু একসময় সেই পাপই পচে গিয়ে ঝরে পড়ে। তার ভাষায়, এখন সেই পাপে পচন ধরেছে। সরকার যদি বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে ভালো। অন্যথায় তাদের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনেকেই নির্যাতনের শিকার ছিলেন। কিন্তু যেসব জুলুম ও অপকর্মের বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করেছে, এখন যদি সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করা হয়, তাহলে জনগণ সেটিকে ফ্যাসিবাদী আচরণ হিসেবেই দেখবে।

তিনি বলেন, জনগণকে সম্মান করলে জনগণও সম্মান দেবে। তবে তিনি শপথ করে বলেন, বাংলার মাটিতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ তারা মেনে নেবেন না।

ডা. শফিকুর রহমান জনগণের মতামত ও গণরায়কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জনগণের রায়কে অস্বীকার করে কেউ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি; শেষ পর্যন্ত তাদের অপমানজনক বিদায় নিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপসের জন্য তাদের ওপর প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং নানা ধরনের প্রলোভনও দেখানো হচ্ছে। তবে দেশবাসীকে সাক্ষী রেখে তিনি ঘোষণা দেন, জনগণের গণরায়ের পাহারাদার হিসেবে তারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ দাবি থেকে কোনো অবস্থাতেই সরে আসবেন না।

জামায়াত আমির বলেন, মহান আল্লাহর ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। একই সঙ্গে তিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

/এসএন