• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩১ এএম


হবিগঞ্জে হামলা-সংঘর্ষের পর ঢাকার পথে নাসীরুদ্দীন ও সারজিস

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুলাই ২০২৬ ১১:৪৪ পিএম

পুলিশের তৎপরতায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন।

হামলার জন্য ছাত্রদল ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল বলেছে, এনসিপির নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হামলার মুখে সারজিস আলম শহরের সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও হামলার মুখে দ্রুত সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে তিনিও ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

এদিকে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে গেলে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় হবিগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছান।

কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িকেও ধাওয়া করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তখন তাঁর গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরে রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে পুলিশ প্রটোকলে তিনি হবিগঞ্জ শহর ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

এনসিপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়িটি ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি।

নাসীরুদ্দীন আরও অভিযোগ করেন, হামলায় তাঁদের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, সার্কিট হাউসের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক নজির।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাতও দাবি করেন, হামলায় সাংবাদিক ও দলের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

তবে এনসিপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, এনসিপির নেতারা সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। ওই বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এরই প্রেক্ষাপটে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর হবিগঞ্জ শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে সিলেট শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। রাত পৌনে ১১টায় প্রতিবেদন লেখার সময় রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ চলছিল।