পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী এলাকায় নিজ ছেলে ও মেয়ের খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবা সিরাজুল শিকদারের (৪০) বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি তার ছেলে ইয়াসিন (১৪) ও মেয়ে সামিয়াকে (৭) শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পান করান।
ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়া দুই শিশুকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত সিরাজুল শিকদার পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের লাহুড়ী গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, তিনি শ্বশুরবাড়ি কুমারখালী এলাকায় অবস্থানকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ইয়াসিনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা তাকে চিনি আনতে বলেন। পরে চিনি এনে দিলে তিনি শরবত তৈরি করেন এবং তা ইয়াসিন ও তার বোন সামিয়াকে পান করান। শরবত পান করার কিছু সময়ের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে সামিয়া জানায়, শরবত পান করার পর তার মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সে পড়ে যায়। তার দাবি, শরবতের মধ্যে কোনো কিছু মেশানো ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন বাড়ির উঠানে দুই শিশু কাতরাচ্ছে। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
শিশু দুটির নানা আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘তার নাতি-নাতনিকে তাদের বাবা বিষ মিশ্রিত শরবত খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরাজুল শিকদার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে আমি সন্তানদের দেখাশোনা করছি। আমাদের বিয়ের বয়স ২০ বছর। এক বছর আগে আমার স্ত্রী আমাকে ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছে। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ষড়যন্ত্র করে সন্তানদের বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’
ঘটনার বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’