বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন:
তিস্তা নদীকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবার নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে—এমন আলোচনা জোরালো হয়েছে কূটনৈতিক অঙ্গনে। বেইজিং সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি পানি প্রকল্পের আলোচনা নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা।
তিস্তা নদী উত্তর বাংলাদেশের কৃষি ও জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। শুষ্ক মৌসুমে উজানে ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশের বহু কৃষক সেচ সংকটে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে।
২০১১ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি জানানোয় তা বাস্তবায়ন হয়নি।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সরকার একাধিকবার আলোচনা ও কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও চুক্তি আর এগোয়নি।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, চীনের বড় অবকাঠামো নির্মাণ সক্ষমতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’ অঞ্চলের কারণে নয়াদিল্লির উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, বাংলাদেশ মূলত উন্নয়ন ও পানি ব্যবস্থাপনার স্বার্থেই বহুমুখী কূটনৈতিক পথ খুঁজছে। এটিকে সরাসরি কোনো পক্ষ বেছে নেওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, ভারতীয় বিশ্লেষকরাও বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে নয়াদিল্লিকে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফলও দেখাতে হবে।
/এএসএফ