পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় জয়ের পর রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান হতে পারে—এমন আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি।
বিজেপি নেতাদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ করা হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। এর ফলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে চলমান জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে দলটি মনে করছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং বিতাড়িত করো’ নীতি অনুসরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজেপি নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ দেবে নবগঠিত সরকার। অনুপ্রবেশ শূন্যে নামিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযান বাড়ানো হবে এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ভারতের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘ এক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এবার বড় বিজয়ের মাধ্যমে রাজ্যে তাদের ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই জয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ জয় নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, রাজ্যে প্রথমবারের মতো ‘পদ্ম’ ফুটেছে।
এই বিজয়ের পেছনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের নানা বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
এর আগে ২০২১ সালে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের কার্যপরিধি ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এটিকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তৎকালীন তৃণমূল সরকার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে।
এছাড়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় সরকার আইন কার্যকর করার বিধি জারি করলেও তা বাস্তবায়নে বাধা দেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ফলে বিজেপির কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়ে।
খাগড়াগড় ও ভূপতিনগর বিস্ফোরণের মতো ঘটনাগুলোর তদন্ত নিয়েও কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়ে যায়। এসব ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগও আনা হয় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে।
এছাড়া ২০২১ সালের বিধানসভা, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পর্শকাতর কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর এসব পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/এসএন