সানজিদা হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি হিমু জেলহাজতে প্রেরণ
বরিশালে প্রেমিকা সানজিদা কবির আনিতাকে বাসায় ডেকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মাইনুল ইসলাম হিমুকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিমুকে র্যাব গ্রেফতার করে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৮-এর সদস্যরা বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী টোল ঘর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার হওয়া মাইনুল ইসলাম হিমু ঝালকাঠি সদর উপজেলার কাঠপট্টি এলাকার গোলাম মোর্শেদ জিলানী ওরফে মিল্টন আকনের ছেলে। তিনি তার মা ফাতেমা বেগম চিনুর সঙ্গে বরিশাল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন প্রাইমারি স্কুল এলাকার রাফী মঞ্জিলে বসবাস করতেন।
র্যাব-৮-এর সদর দপ্তর থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সানজিদা কবির আনিতা (২১) এবং মাইনুল ইসলামের (৩২) মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সানজিদা তার বাসা থেকে বোনের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি আর বাসায় ফিরে আসেননি।
পরিবারের সদস্যরা তাকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবার। এক পর্যায়ে তারা জানতে পারেন, সানজিদা মাইনুল ইসলামের বাড়িতে মৃত অবস্থায় রয়েছেন।
এরপর সানজিদার পরিবার কোতোয়ালি মডেল থানায় বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ রাফী মঞ্জিলের ষষ্ঠ তলায় মাইনুল ইসলামের ভাড়া বাসায় গিয়ে খাটের ওপর সানজিদার নিথর ও জখম অবস্থার মরদেহ দেখতে পায়।
ঘটনার পর সানজিদার বোন বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত মাইনুল ইসলাম হিমু কৌশলে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। তিনি অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলেও জানায় র্যাব।
গ্রেফতারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে নিশ্চিত করে র্যাব-৮।
শুক্রবার হিমুকে জেলহাজতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া হিমুকে শুক্রবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।