বিয়ের এক দশক পর মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও শেষ পর্যন্ত শোকে ভাসল একটি পরিবার। নড়াইল সদর উপজেলার কালুখালী গ্রামে এক নারী একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিলেও কোনো নবজাতকই বাঁচেনি। জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে চারজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের বাসিন্দা মহসিন মোল্যার স্ত্রী সালমা বেগম দীর্ঘ ১০ বছর পর গর্ভধারণ করেন।
কয়েক মাস আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা তার গর্ভে ছয়টি সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। তবে প্রসবের সময় দেখা যায়, তিনি সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।গত সোমবার (৪ মে) হঠাৎ প্রসব ব্যথা শুরু হলে সালমা বেগমকে দ্রুত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে প্রথম সন্তানের জন্ম হয় এবং জন্মের কিছু সময় পরই শিশুটি মারা যায়। একই রাতে আরও একটি শিশুর জন্ম হলেও তাকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পরদিন বুধবার (৬ মে) রাত পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি শিশুর জন্ম হয়। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের কেউই বেশিক্ষণ বাঁচেনি বলে জানিয়েছে পরিবার।বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে কালুখালী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে ছয় নবজাতককে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
অপর শিশুটিকে যশোরে দাফন করা হয়েছে।শিশুদের দাদা লতিফ মোল্যা বলেন, দীর্ঘদিন পর পরিবারে সন্তান আসার খবরে সবাই আনন্দিত ছিলেন, কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ শোকে পরিণত হয়েছে। এতগুলো শিশুকে একসঙ্গে কবর দিতে হবে—এটা কখনো ভাবেননি বলেও জানান তিনি।স্থানীয় শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, একসঙ্গে এত সন্তান জন্মের ঘটনা এলাকায় আগে কেউ দেখেননি।
অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়ায় শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।বর্তমানে প্রসূতি সালমা বেগম যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
/বিএসএস