• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম


আজ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১:০০ পিএম

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরসেনানী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডের মোবারক লজে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর, যা বর্তমানে মতিনগর নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য অসামান্য সাহসিকতা ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ভৈরবে একটি গোপন প্রশিক্ষণকেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে একটি বিমান নিয়ে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন মতিউর রহমান। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তানের করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে উড্ডয়ন করেন তিনি।

বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি প্রশিক্ষণার্থী পাইলট রশিদ মিনহাজের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বিমানটি সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা এলাকার কাছে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় শহীদ হন মতিউর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ২৯ বছর।

১৯৬৩ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন মতিউর রহমান। পরে ১৯৬৭ সালে তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন। ১৯৬৮ সালে মিলি খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁদের দুই মেয়ে মাহিন ও তুহিন।

শহীদ হওয়ার পর মতিউর রহমানকে পাকিস্তানের করাচিতে সমাহিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের ২৪ জুন তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরদিন, ২৫ জুন, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে পুনরায় সমাহিত করা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মতিউর রহমানকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও গভীর দেশপ্রেম বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

/এসএন