• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৬ এএম


তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহ সংকটে কমছে না ভোগান্তি

আপডেট টাইম: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১:২৫ পিএম

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হলেও রাজধানীতে তেল সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বনশ্রী, হাজিপাড়া ও রাজারবাগ এলাকার একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়—কোথাও পাম্প বন্ধ, আবার কোথাও তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন গ্রাহকরা।

বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড ও হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন সকাল থেকেই বন্ধ ছিল। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। দুপুরে নতুন তেল সরবরাহ পৌঁছালে বিক্রি শুরু হতে পারে।

হাজিপাড়ায় পাম্প বন্ধ থাকলেও তেল পাওয়ার আশায় শত শত গাড়ি ও মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ এই সারিতে অনেক চালক ভোর থেকে, এমনকি কেউ কেউ আগের রাত থেকেই অপেক্ষা করছেন।

মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল বলেন, “তেল আসলে আগে নিতে পারব—এই আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।”

অন্যদিকে রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে তেল বিক্রি চালু থাকলেও সেখানে চিত্র ভিন্ন নয়। দীর্ঘ লাইনের কারণে চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই সারি প্রধান সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে যানজটেরও সৃষ্টি করছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এতক্ষণ অপেক্ষার পরও প্রয়োজনমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

এর আগে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ শনিবার (১৮ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। নতুন দরে ডিজেল লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

তবে দাম বাড়ানোর পরও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় জনভোগান্তি কমেনি। অনেক জায়গায় সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

গ্রাহক মেজবা উদ্দিন বলেন, “দাম বাড়িয়ে যদি তেলই না পাওয়া যায়, তাহলে এই সিদ্ধান্তের কী লাভ? পর্যাপ্ত মজুত থাকলে পাম্প বন্ধ থাকবে কেন?”

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে মজুতদারি কমবে। মোটরসাইকেল চালক সাইফুল বলেন, “এখন আর আগের মতো তেল জমিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা সহজ হবে না। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারেও। সরকার দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও, সাধারণ মানুষের দাবি—দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বন্ধ পাম্পগুলো চালু করা। তা না হলে এই ভোগান্তি শিগগিরই কাটবে না।