• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম


জুলাই জাদুঘরে প্রথম ছুটির দিনেই ভো/গান্তি, সময়সূচি ও টিকেট নিয়ে ক্ষো/ভ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ আগস্ট ২০২৬ ৯:১৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেলেও নানা কারণে ভোগান্তির মুখে পড়েছেন অনেকে। জাদুঘর খোলার সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তি, অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের জটিলতা, রিফান্ড সুবিধা না থাকা এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার একপর্যায়ে কেউ কেউ স্লোগানও দেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই জাদুঘরের সামনে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। আগের দিনের মতো সকাল ১১টায় জাদুঘর খোলা হবে—এমন ধারণা নিয়ে এলেও পরে জানতে পারেন, দর্শনার্থীদের প্রবেশ শুরু হবে বিকেল ৩টা থেকে। ফলে জাদুঘরের মূল ফটক ও আশপাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের। প্রচণ্ড রোদে অপেক্ষা করতে করতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ আবার ভুল তারিখে অনলাইনে টিকিট কেটে রিফান্ড সুবিধার দাবি জানান।

কুমিল্লা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় আসেন মিশুকচালক মো. ইসমাল হোসেন। রাতে তিনি মিরপুরের শাহ আলী মাজার এলাকায় অবস্থান করেন। শুক্রবার সকালে জুলাই জাদুঘর দেখতে এসে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি সাবেক গণভবন দেখার উদ্দেশ্যেও ঢাকায় এসেছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় জাদুঘরের সামনে এসে দেখেন সেটি বন্ধ। পরে অন্যদের কাছ থেকে ১১টায় খোলার কথা শুনলেও শেষ পর্যন্ত জানতে পারেন বিকেল ৩টায় প্রবেশ শুরু হবে। তাই সকাল থেকে আশপাশে ঘুরে সময় কাটিয়ে পরে জাদুঘর ঘুরে কুমিল্লায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।

সাভার থেকে পরিবার নিয়ে জাদুঘর দেখতে আসেন মো. আল-আমিন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাগুলো সন্তানদের দেখানোর উদ্দেশ্যেই পরিবার নিয়ে এসেছেন। তবে সকাল ১১টা থেকে জাদুঘর খোলা থাকবে—এমন তথ্য জেনে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এলেও এসে জানতে পারেন, প্রবেশ শুরু হবে বিকেল ৩টায়। আগে থেকে এ তথ্য জানানো হলে রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো না বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে দুপুর ১টার দিকে জাদুঘরে আসেন তারেক হাসান সোহেল। তিনিও সময়সূচির বিভ্রান্তির পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট বুকিং নিয়ে সমস্যায় পড়েন। তিনি জানান, জাদুঘরের সামনে এসে ভিড় দেখে অনলাইনে টিকিট কাটেন। পরে দেখতে পান, তার টিকিট ৯ আগস্টের জন্য ইস্যু হয়েছে। তার পক্ষে ওই দিন আবার আসা সম্ভব নয়। তাই টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে জানতে চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও বলেন, আগের রাতেই তিনি বিকেল ২টা থেকে ৪টার স্লটের টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু এসে জানতে পারেন, দর্শনার্থীদের প্রবেশ শুরু হবে বিকেল ৩টা থেকে। অনলাইনে সময় পরিবর্তনের তথ্য আগে থেকে দেওয়া থাকলে এ ধরনের ভোগান্তি এড়ানো যেত।

দর্শনার্থী আরমান জানান, ব্যক্তিগতভাবে তার ধারণা, এই জাদুঘর হয়তো দীর্ঘদিন থাকবে না। তাই পরিবারকে নিয়ে এসে এটি দেখাতে চেয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে বলতে পারেন তারা এটি একসময় দেখেছিলেন। তিনি বলেন, মেয়ে ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

আরেক দর্শনার্থী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি অনলাইনে তিনটি টিকিট কিনেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, সেগুলো আজকের জন্য নয়। তার মতে, টিকিট কাটার সময় তারিখ নির্বাচন অপশনটি আরও স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা উচিত, যাতে অন্য কেউ একই সমস্যায় না পড়েন।

তিনি আরও বলেন, যারা অগ্রিম টিকিট কেটে পরে আসতে পারেন না, তাদের জন্য নির্ধারিত স্লট খালি থেকে যায়। ফলে অন্য দর্শনার্থীরাও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তাই অনলাইনে টিকিট বাতিল বা রিফান্ডের ব্যবস্থা চালু করা হলে বাতিল হওয়া স্লট আবার অন্যদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হতো। তার ভাষায়, মানুষের পরিকল্পনা বদলাতেই পারে। যেহেতু অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, সেহেতু রিফান্ডের সুবিধাও থাকা উচিত।

দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অনেক দর্শনার্থী। তারা স্লোগান দিতে শুরু করেন, ‘হই হই রই রই… টিকিটম্যান গেল কই।’

জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানান, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতেই নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছিল, শুক্রবার দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর বিকেল ৩টা থেকে খোলা হবে। তবে অনেকেই আগের সময়সূচি অনুযায়ী সকালেই চলে আসেন।

এ বিষয়ে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব বলেন, ভবনের ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ায় পরিকল্পনা ছিল স্লট পদ্ধতিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করানো। তবে উদ্বোধনের প্রথম সপ্তাহে মানুষের আগ্রহ বেশি থাকায় অনেকেই সেই ব্যবস্থা মানতে চাননি। বর্তমানে একটি পরীক্ষামূলক সময় চলছে। তাই আপাতত কিছুটা বেশি সংখ্যক দর্শনার্থীকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলাভাবে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাগ জমা দেওয়া, লাইনে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সময় লাগেই। তার বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে দর্শনার্থী এবং কর্তৃপক্ষ—উভয়েই এ ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। এক সপ্তাহ সময় দিলে পুরো পরিচালনা প্রক্রিয়া আরও স্বাভাবিক ও মসৃণ হবে।

/এসএন