• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ এএম


প্রথম দিনেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪৫ এএম

জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ জুলাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত এই জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন।

কেউ এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

জাদুঘরে প্রবেশের জন্য ১২ বছরের ঊর্ধ্বে দর্শনার্থীদের টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য ২০ টাকা। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি খোলা থাকবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই টিকিট কাউন্টারে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে আঁকা রঙিন গ্রাফিতি, যেখানে আন্দোলনের দিনগুলো এবং তৎকালীন সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ভেতরে প্রবেশ করলে দেয়ালে খোদাই করা বীর শহীদদের নামের তালিকা এবং মূল প্রদর্শনীকক্ষে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর সহিংসতার নানা আলামত ও তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া শেখ হাসিনা সরকারের বিতর্কিত ‘আয়নাঘর’-এর আদলে একটি প্রতীকী স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে।

জাদুঘর উন্মুক্ত হওয়ায় দর্শনার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে।

জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানান, সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। বৃষ্টি সত্ত্বেও অনেকে ভিজেই পুরো জাদুঘর ঘুরে দেখেছেন। তার আশা, সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে প্রদর্শনী সামগ্রী স্পর্শ না করার অনুরোধ জানান।

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া রবিন মিয়া বলেন, “আমার শরীরে আন্দোলনের স্মৃতি হিসেবে আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে। কিন্তু আমরা কোনো প্রতিদান বা সার্টিফিকেট চাই না। আমাদের একমাত্র চাওয়া, দেশ ভালো থাকুক এবং মানুষ ভালো থাকুক। আমরা সম্মান বা পদবির জন্য নয়, মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য লড়াই করেছি।”

ঢাকা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী এস এম সামিউল ইসলাম বলেন, “আগেও এখানে এসেছিলাম, আজ আবার এলাম। তখনকার পরিস্থিতি আর এখনকার পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন। জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় মানুষ স্বৈরাচারের সময়কার নির্যাতন ও শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে।”

দর্শনার্থী সাদ বিন হারুন বলেন, “জাদুঘরে এসে বুঝতে পারলাম, জুলাইয়ে দেশের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল। শুধু ঢাকার নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঘটনাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর চালানো নির্যাতনের চিত্র দেখে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়।”

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

/এএসএফ