• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০২ পিএম


‘শেখ হাসিনা ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট’-রুহুল কবির রিজভী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৬:১৪ পিএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনা ছিলেন ইতিহাসের ‘নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট’। তাঁর দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন ফ্যাসিস্ট শাসকের সঙ্গে শেখ হাসিনার মৌলিক পার্থক্য ছিল।বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরের আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার ও বেনিতো মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্টরা জাতিগত নিপীড়নের মাধ্যমে লাখো মানুষকে হত্যা করেছে। তবে তাদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের জাতিকে শক্তিশালী ও শ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর ভাষ্য, হিটলার বা মুসোলিনি শেখ হাসিনার মতো অর্থ পাচার, ব্যাংকের অর্থ লুট, শেয়ারবাজার ধ্বংস কিংবা সরকারি জমি দখলে জড়াননি। তারা ভয়ংকর শাসক হলেও নিজ দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।রিজভীর অভিযোগ, শেখ হাসিনার মূল লক্ষ্য ছিল গোটা জাতিকে লুণ্ঠন করে আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করা। এ কারণেই তিনি শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট হিসেবে অভিহিত করেন।তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের একটি বিশেষ চোরাপথ দিয়ে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটে এবং বাংলাদেশেও একইভাবে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সেই ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ জনগণের রক্ত ঝরাতেও পিছপা হয়নি।বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল এবং ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন।রিজভীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে কোলের শিশুও প্রাণ হারিয়েছে। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি, ফলের দোকানের কর্মচারী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জনগণের এক বিশাল জাগরণ এবং জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তির বিস্ফোরণ। তাঁর মতে, শেখ হাসিনা সেই শক্তি উপলব্ধি করতে পারেননি বলেই বারবার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া ওই সরকারকে কেউ সমর্থন করেনি, তবুও তারা জোর করে ক্ষমতায় ছিল।রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার যে গণতান্ত্রিক প্রত্যয় রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে সংগ্রাম করেছেন, ভবিষ্যতেও সেই লড়াইয়ে তারা অংশ নিতে দ্বিধা করবেন না।

/বিএসএস