• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম


ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটেও সচল ছিল শেখ হাসিনার গোপন যোগাযোগ!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪২ পিএম

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকলেও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ছিল বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক দল। তাদের দাবি, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, স্যাটেলাইট ফোন এবং বিশেষ ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সারাদেশে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর থাকলেও গণভবনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের (বর্তমানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট) বিশেষ ব্যাকআপ ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চগতির ইন্টারনেট চালু রাখা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক দল দাবি করেছে, গণভবনের ছাদে স্থাপিত বিশেষ টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামেরও প্রমাণ তারা পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও বিশেষ কনফিগারেশনের মাধ্যমে গণভবনে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ সচল ছিল।

তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ১ আগস্ট থেকেই আন্দোলনের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন শেখ হাসিনা। এরপর ৩ আগস্ট একদফা কর্মসূচি ঘোষণার পর তার ব্যবহৃত ফোন থেকে অন্তত ৭০টি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে ১১টি নম্বরের সঙ্গে থাকা নাম, ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট নিয়মিত ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে শেখ হাসিনা স্যাটেলাইট ফোন এবং গণভবনের কর্মীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। একই সূত্রের দাবি, স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাময়িক আশ্রয়ের আবেদন করেন।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে সম্মতি পাওয়ার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে কুর্মিটোলা এয়ার মুভমেন্টে যান। সেখানে ভিআইপি লাউঞ্জে অবস্থানকালে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ করেন। এর একটি ছিল সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে নিবন্ধিত একটি নম্বরে, যা তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী তখন বাংলাদেশ থেকেই সক্রিয় ছিল। অন্য ফোনালাপটি করা হয় হেলিকপ্টার উড্ডয়নের ঠিক এক মিনিট আগে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, ১ আগস্ট থেকেই শেখ হাসিনা তার নিকটাত্মীয়দের কাছে দেশত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা পাঠাতে শুরু করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট এসএমএসগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ এখনও সম্পন্ন হয়নি।

এদিকে, শেখ হাসিনার যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তদন্তে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে গুমের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নাম উল্লেখ করে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তার জলসিঁড়ির বাসভবনে একটি নিজস্ব সার্ভার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ওই বাসভবনে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সংযোগের পরিবর্তে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিয়ে একটি স্বতন্ত্র সার্ভার অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, যাকে তিনি ‘ডিজিটাল আয়নাঘর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, এসব তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক দলের দাবি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশিত হয়নি।

সূত্র: যমুনা টিভি

/এএসএফ