সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আজ আমাদের আরেক বিজয় দিবস। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন আজ।’
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন শুরু থেকেই শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন ছিল না। তবে ১৬ জুলাই নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের পর তার সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
তিনি লেখেন, ‘জুলাই অসন্তোষ শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়নি। কিন্তু ২৫ মার্চের কালরাতের পর যেমন মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল, তেমনি ১৬ জুলাইয়ের পর নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড শেখ হাসিনার পতনকেও অনিবার্য করে তোলে।’
তিনি আরও দাবি করেন, নিজের দেশের মানুষের ন্যায্য প্রতিবাদের জবাবে এমন নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের নজির দক্ষিণ এশিয়ায় বিরল। একই সঙ্গে ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনার দেশত্যাগকেও আধুনিক বিশ্বের নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেন।
পোস্টে আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল বলেন, দলটি মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিল—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে জনতার আন্দোলনের মুখে দলটিকে অন্তত দুইবার ক্ষমতা হারাতে হয়েছে। কেন এমন হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগেরই খুঁজে বের করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তার মতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনার জায়গা নেই। এই মানসিকতাই দলটিকে দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়ন চালানোর সাহস জুগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের মতো ক্ষমতার মালিকানাবোধ এবং সীমাহীন অনাচার করার আত্মবিশ্বাস অন্য কোনো দলের মধ্যে তিনি দেখেননি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চাইলে আনন্দ করতে পারেন। তবে তার দাবি, হাজারো মানুষকে হত্যার এবং অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়ার অভিযোগের বিচার না হলে প্রয়োজন হলে তিনি আবারও রাজপথে নামবেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা মৃত্যুভয়কে জয় করেই বেঁচে আছি। যতদিন বেঁচে থাকব, বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের বুকে গুলি চালানো খুনিকে একবিন্দুও ভয় করব না, এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমা করব না। জুলাই আমাদের পুনর্জন্মের নাম। নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই হয়েই বাঁচব চিরদিন।’
/এএসএফ