• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম


হাসিনা ১৬ বছরে ‘ক্রসফায়ারে’ সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ খুন করেছে: আইনমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৮:৫১ পিএম

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গত ১৬ বছরের শাসনামলে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ বিনা বিচারে নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন, ত্যাগ ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতার যৌক্তিক এবং সফল পরিণতি। যারা জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম হয়েছেন। তাদের স্বজনরা আজও প্রিয়জনের ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ৬০ লাখের বেশি মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি করা হয়েছিল। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজে থাকা মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বোমা হামলার মামলা দেওয়া হয়েছিল।

সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানতে পারেন যে দেশে আবৃত্তিকে শিল্পের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নৃত্য ও সংগীতের মতো শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবৃত্তি মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের ভূমিকা অপরিহার্য। এ ধরনের উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।

/এএসএফ