কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে দেশের তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের কাজ পেতে যাচ্ছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই)। চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা চালানোর অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৬ জুলাই সিএনইই জ্বালানি বিভাগে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয়। প্রস্তাবে তারা ২২ মাসের মধ্যে টার্মিনাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রস্তুত এফএসআরইউ জাহাজ না থাকায় সেটি নির্মাণে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।
জানা গেছে, সিএনইইর প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটিকে অভিজ্ঞ উল্লেখ করে তাদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দরপত্র ছাড়াই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার আওতায় জিটুজি পদ্ধতিতে সরাসরি আলোচনার প্রক্রিয়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মাতারবাড়ীতে প্রস্তাবিত এফএসআরইউ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বর্তমানে মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু রয়েছে। তবে সামিট গ্রুপের সঙ্গে করা পূর্ববর্তী চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করার পর নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার ঘটনায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে সারা দেশের গ্যাস ব্যবস্থায়। আগামী ১ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালুর পরিকল্পনা থাকলেও জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাহিদা পূরণে নতুন এফএসআরইউ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
/এএসএফ