• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম


আম্মারসহ শিবির নেতাদের হামলায় আহত দুই শিক্ষার্থী কারাগারে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুলাই ২০২৬ ৭:৪০ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ শিবির নেতাদের হামলায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাহ মখদুম থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের সময় ওই দুজনকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে কয়েক দফায় মারধরের ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী তাঁর বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান।

সেখানে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস, একই বিভাগের হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত হন। পরে তারা অভিযোগটি অস্বীকার করে প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন।

এ ঘটনার পর সোমবার দুপুরে একটি সভা ডাকেন প্রক্টর। সভায় রাকসু নেতারা আনাসের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁর ছবি দেখতে পান। এরপর প্রক্টর দপ্তরে আম্মার ও সালমান সাব্বির আনাসকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে দুপুরেই প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করেন। এরপর আনাসসহ অন্যরা প্রক্টর দপ্তর থেকে বেরিয়ে যান।

এর জেরে বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে ঢুকে আম্মারসহ কয়েকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।

হামলার পর আনাসসহ তাঁর সঙ্গীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নেন। পরে শিবির ও রাকসু নেতারা পাঠকক্ষের ফটকে থাকা প্রক্টরকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলার শিকার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আনাস বলেন, ‘সালাউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে এসে আমাকে মারধর শুরু করেন। তারপর আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি করে। পরে আম্মার লোকজন নিয়ে এসে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে।’

তবে নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন দাবি করে আনাস বলেন, অতীতে তাঁর বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করতেন। সে কারণে কোনো এক জায়গায় তাঁদের সঙ্গে তাঁর ছবি থাকতে পারে। তবে ছাত্রলীগের ব্যানার বা ফেস্টুনে তাঁর কোনো ছবি নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে হামলার ঘটনায় শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ‘এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার কথা শুনে দ্রুত এখানে আসি। এখানে এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।’

অন্যদিকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানাই। তবে তারা তাকে কিছুই করেনি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হলো।’

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, দিনভর ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে তাঁরা বৈঠকে বসেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এ ঘটনায় বিচার করা হবে।