দেশে সরকারি নিম্নপদের চাকরিতেও উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার তথ্য বলছে, যেসব পদের জন্য একসময় অষ্টম শ্রেণি বা এইচএসসি পাসই যথেষ্ট ছিল, সেসব পদেও এখন আবেদন করছেন স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমনকি প্রকৌশল ও এমবিএ ডিগ্রিধারীরা।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, পাবনায় অফিস সহায়কের ১৮টি পদের জন্য প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিপুলসংখ্যক উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী আবেদন করেন। জাতীয় বেতন কাঠামোর ২০তম গ্রেডের এ পদটি আগে এমএলএসএস বা পিয়ন নামে পরিচিত ছিল এবং এর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাস। তবে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত।
একইভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১৬তম গ্রেডের ৩১২টি তৃতীয় শ্রেণির পদের জন্য আবেদন করেছেন ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯ জন। অর্থাৎ প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করছেন প্রায় ৩ হাজার ৯৫৬ জন। যদিও এসব পদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক, আবেদনকারীদের বড় অংশই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। এর মধ্যে কর্মসংস্থান হয় আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ লাখ মানুষের। সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে তুলনামূলক ভালো বেতনের চাকরি পান প্রায় ৩ লাখ তরুণ। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীকে দীর্ঘ সময় বেকার থাকতে হয় অথবা কম বেতনের চাকরিতে যোগ দিতে হয়।
কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ বিদেশে কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। বৈধ উপায়ে যেতে না পারা অনেকেই দালালের মাধ্যমে উচ্চ ব্যয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি করে।
২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৫৯ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নিম্নপদের চাকরিতে উচ্চশিক্ষিতদের ব্যাপক আবেদন সেই চ্যালেঞ্জেরই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। চাকরির বাজারে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতার মধ্যে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।