• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ এএম


প্রযুক্তিনির্ভর ও সক্ষম সেনাবাহিনী গঠনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ জুলাই ২০২৬ ৯:১৩ পিএম

প্রযুক্তিনির্ভর ও সক্ষম সেনাবাহিনী গঠনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে প্রযুক্তিনির্ভর এবং সক্ষম সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন শুধু ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাও জাতীয় প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তারেক রহমান জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো সংখ্যাগত সম্প্রসারণের চেয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

তিনি বলেন, ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার সক্ষমতা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নিরাপত্তা শুধু সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং জাতীয় ঐক্য, প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। এ লক্ষ্যেই সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনগণকে নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হবে।

সেনাবাহিনীর পদোন্নতি ও নেতৃত্ব নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর সাফল্যে তিনি গর্ববোধ করেন এবং কোনো নেতিবাচক ঘটনায় অস্বস্তি অনুভব করেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার পারিবারিক ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট তার জীবনের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গৌরবোজ্জ্বল। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং দক্ষতা অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

/এএসএফ