বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হাসপাতালগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন আইনের মাধ্যমে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে বাণিজ্যিক অথবা অলাভজনক কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী দল এই উদ্যোগকে স্বাস্থ্যসেবার ‘বেসরকারীকরণের পথে পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করেছে।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর আগে গত ২৮ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। পরে কমিটির সুপারিশ ও প্রতিবেদনসহ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হলে কণ্ঠভোটে তা চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এখন থেকে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের আওতায় বাণিজ্যিক কিংবা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গঠন করতে পারবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় যেকোনো কোম্পানির শেয়ার অর্জন, ধারণ এবং হস্তান্তরের ক্ষমতাও পাবে।
এছাড়া এসব কোম্পানির মাধ্যমে অর্জিত লভ্যাংশ, ইজারা এবং লাইসেন্স ফিসহ অন্যান্য আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলে জমা হবে। এই অর্থ চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’-এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। হাসপাতালটির অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ হলেও নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
সরকারের মতে, কোম্পানি মডেলের মাধ্যমে দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ত করা এবং উন্নত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করাই এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য।
তবে বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনার বিধান নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা ধীরে ধীরে বাজারমুখী হয়ে পড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যখাত পরোক্ষভাবে বেসরকারীকরণের দিকে এগিয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিরোধী দলের এসব সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ যাতে কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সরকার তা নিশ্চিত করবে। নতুন এই ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মাধ্যমে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
/এসএন