• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্ধ করা হলো সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন গাড়ি কেনা ও বিদেশভ্রমণসহ অপ্রয়োজনীয় সকল ব্যয়!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ জুলাই ২০২৬ ১০:১৭ পিএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা স্থগিত করেছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এবং সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধায় ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার সুযোগও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ বিভাগ জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ নির্দেশনা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনীয় যানবাহন ক্রয় করতে পারবে।

নতুন শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া প্রতিস্থাপন বা নতুন কেনা সব জিপ ও কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) হতে হবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের গাড়ি কেনার জন্য দেওয়া সুদমুক্ত বিশেষ ঋণ সুবিধাও আপাতত স্থগিত থাকবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বিদেশি প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে বিদেশি সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যাবে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ বহাল থাকবে।

প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে। এছাড়া প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) বা ফ্যাক্টরি অ্যাক্সেপটেন্স টেস্ট (এফএটি)-এর ক্ষেত্রে কেবল জটিল প্রকৃতির পণ্য এবং যেখানে পিএসআই বাধ্যতামূলক, সেখানে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কর্মকর্তার বিদেশ সফর বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

ব্যয় নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে পরিচালন বাজেট থেকে নতুন আবাসিক, অনাবাসিক বা অন্যান্য ভবন নির্মাণও স্থগিত করা হয়েছে। তবে চলমান নির্মাণকাজের অগ্রগতি যদি কমপক্ষে ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে, তাহলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে তা সম্পন্ন করা যাবে।

পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তবে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় করা যাবে।

এছাড়া পরিচালন বাজেটের থোক বরাদ্দের অর্থ ব্যয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সংরক্ষিত বরাদ্দ অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে। তবে এই পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে যানবাহন কেনার বিষয়ে শর্ত শিথিলযোগ্য হবে।

অর্থ বিভাগ পরিপত্রে সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

/এএসএফ