• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ পিএম


মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ, হুতিদের ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ বললেন বাদশাহ সালমান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০৪ এএম

পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের কথিত হামলার প্রচেষ্টাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করে এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘন করে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জেদ্দায় সৌদি মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় এসব কথা বলেন বাদশাহ সালমান। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, বৈঠকে বাদশাহ দেশের পবিত্র স্থান, হজ ও ওমরাহ পালনকারী, নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বাদশাহ সালমান বলেন, সৌদি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী দেশের নিরাপত্তা এবং পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানকে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন থেকে রক্ষায় তারা প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সৌদি আরব দাবি করে, ইয়েমেন থেকে হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, ড্রোনটি মক্কার সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী সেটিকে ভূপাতিত করে। এ ঘটনার পর মক্কায় প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে হুতি নেতৃত্ব। হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি সৌদি আরবের এই দাবিকে ‘জঘন্য মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, মক্কার পবিত্রতার বিষয়টি ইয়েমেনিদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ড্রোনটি কারা উৎক্ষেপণ করেছিল এবং সেটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ রয়েছে।

মক্কায় অবস্থিত কাবা শরিফ ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র স্থান। ফলে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার যেকোনো অভিযোগ সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। বাদশাহ সালমানও তাঁর বক্তব্যে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তাকে সৌদি সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে ঘিরে হুতিদের হামলা ও হামলার হুমকি বেড়েছে। শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করে, হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকার আশপাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। হুতিরাও ওই সময় রিয়াদসহ সৌদির বিভিন্ন স্থানে হামলার দাবি করেছিল।

হুতিদের সামরিক তৎপরতা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা নয়, আঞ্চলিক সমুদ্রপথ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের ফলে বাব আল-মান্দাবসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার মধ্যেই এসব সমুদ্রপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব তার নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার করছে। গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক হুতি হামলার পর এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের মিসর সফরের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়। সফরে তিনি মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তাঁর ফোনালাপের বিষয়ও উঠে আসে। সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এর ফলে একদিকে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। একই সময়ে সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলোও দেশটির নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে এবং কূটনৈতিকভাবে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

/এএসএফ