বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ) বা বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বন্ধ থাকা ঐতিহাসিক জলিল টেক্সটাইল মিলস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রতীকী মূল্যে সম্পত্তিটি হস্তান্তরের প্রস্তাব বুধবার (১ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পায়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এ প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দফা একই প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা অনুমোদন পায়নি।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলসের মোট ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতীকী মূল্য হিসেবে নির্ধারিত অর্থ বিওএফ বিটিএমসিকে পরিশোধ করবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথমবার প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। তখন প্রতীকী মূল্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হস্তান্তরের নীতিগত বিরোধিতা করে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
সেসময় তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, প্রতীকী মূল্যে জমি দেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জমির দাবি ওঠে এবং জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় না। তার মতে, সরকারি জমি নিতে হলে যথাযথ মূল্য পরিশোধ করেই নিতে হবে।
পরে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মতো প্রস্তাবটি উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় তোলা হয়। তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জলিল টেক্সটাইল মিলসের বকেয়া সব দায়-দেনা পরিশোধ করে জমি গ্রহণের প্রস্তাব দেয়। তবে বিটিএমসির স্থায়ী সম্পদ ও দায়-দেনার মূল্যায়ন শেষ না হওয়ায় সেই প্রস্তাবও অনুমোদন পায়নি।
অবশেষে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার সম্প্রসারণ কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
/এএসএফ