• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নতুন ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’, চার খলিফার নামে চার কোম্পানি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ জুলাই ২০২৬ ৯:১৫ পিএম

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। নতুন এই ব্যাটালিয়নের অধীনে চারটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে, যেগুলোর নাম রাখা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা—হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)-এর নামে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত ১৮ জুন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রদান উপলক্ষে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে অবস্থিত বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

নবীন অফিসারদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। এর মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী অফিসার রয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনের ৪ জন, তানজানিয়ার ১ জন, জাম্বিয়ার ১ জন এবং মালদ্বীপের ১ জন অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

এই কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। বিদেশি ক্যাডেটদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ পান তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিদ্যমান ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর পাশাপাশি নতুন এই ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ, ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান।

সেনাবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, এর আগে ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এ জাহাঙ্গীর, রউফ, হামিদ, নুর মোহাম্মদ ও মোস্তফা—এই পাঁচটি কোম্পানি ছিল, যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বীরদের নামে। নতুন ব্যাটালিয়নে চার খলিফার নামে কোম্পানির নামকরণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কাঠামোয় নতুন একটি মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এ আরও দুটি পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত কোম্পানি দুটির নাম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.) এবং স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা.)-এর নামে রাখার পরিকল্পনা করা হলেও তা এখনো অনুমোদন পায়নি।

সেনাবাহিনীর সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রতিবছর অফিসার ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশিক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

/এএসএফ