• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ এএম


সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম: সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ জুন ২০২৬ ৭:১৪ পিএম

সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই, আর সেই বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত সেনা কর্মকর্তাদের ওপরই ন্যস্ত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন লাভ উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন, প্যারেডে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কৃতী ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিবেদিতপ্রাণ, দক্ষ, চৌকস, মেধাবী এবং একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুগত্য, শৃঙ্খলা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘চির উন্নত মম শির’ মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দূরদর্শী পরিকল্পনা ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ অবদানের জন্য বিএমএর প্রতি গর্ব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নানা বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ, চৌকস ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। এর মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী অফিসার রয়েছেন।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনের ৪ জন, তানজানিয়ার ১ জন, জাম্বিয়ার ১ জন এবং মালদ্বীপের ১ জন অফিসার ক্যাডেটও বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। অন্যদিকে, তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নেন। পরে উপস্থিত অতিথি এবং নবীন অফিসারদের মা-বাবা ও অভিভাবকরা তাদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

/এসএন