• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম


ভারত-সমর্থিত স|ন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ২১ সদস্য নি|হত, বলছে পাকিস্তান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ জুন ২০২৬ ১১:৪৬ পিএম

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া (কে-পি) প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার মিরান শাহ ও আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে আরও ২১ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার (১৩ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত ২১ জনই ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারেজ’ গোষ্ঠীর সদস্য, যাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

নিহতদের মধ্যে খালিদ রেজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান নামের চার শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছে। আইএসপিআরের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ নাগরিক হত্যাসহ একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তারা মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। এই অভিযানের ফলে এলাকায় সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্ক বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলেও জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নির্ভুল এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ ভিশনের আওতায় এই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এলাকায় অবশিষ্ট সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে এই সাফল্যের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের নির্মূল করা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি বড় সাফল্য। তিনি বলেন, পুরো জাতি সাহসী নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ ভিশনের আওতায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী একের পর এক বড় সাফল্য অর্জন করছে। দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রশংসার দাবিদার। জনগণের সমর্থনে সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের চিরতরে নির্মূল করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) খাইবার পাখতুনখাওয়ার লাক্কি মারওয়াত ও বাজৌর জেলার পৃথক দুটি বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। লাক্কি মারওয়াতের খেরা খেল পাক্কা এলাকার একটি মসজিদের কাছে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে দুইজন নিহত হন।

অন্যদিকে, বাজৌর জেলার তারগাও বারাং এলাকায় একটি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রাণ হারান। এসব ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।