• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৫ এএম


প্রথমবারের মত পারমাণবিক ওয়ারহেড দিয়ে মিসাইল মোতায়েন করল ভারত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ জুন ২০২৬ ১০:১৬ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনায় সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত নীতি অনুসরণ করে আসছে ভারত। তবে আন্তর্জাতিক অস্ত্র গবেষণা সংস্থা এসআইপিআরআই-এর (স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নতুন তথ্য, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো ভারতের কিছু পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েনকৃত’ অবস্থায় রয়েছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, অন্তত ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড বর্তমানে এমন অবস্থায় রাখা হয়েছে, যেগুলোকে কেবল সংরক্ষিত অস্ত্র নয়, বরং কার্যকর সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ভারতের পারমাণবিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। এতদিন শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলোর উৎক্ষেপণব্যবস্থা আলাদা রাখা হতো বলে ধারণা করা হলেও, নতুন তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে কিছু ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান কমে এসেছে।

এসআইপিআরআই বলছে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন বহরের সম্প্রসারণ এ পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের মাধ্যমে দেশটি তার কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে। বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন—এই তিন স্তরের সমন্বয়ে গঠিত ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ আরও শক্তিশালী করতেই মনোযোগ দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

তবে ভারতের সরকারি নীতিতে এখনো বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। দেশটি এখনও ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি বহাল রেখেছে। অর্থাৎ, পারমাণবিক হামলার শিকার না হলে ভারত নিজ উদ্যোগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না—এই অবস্থান এখনও কার্যকর রয়েছে।

ভারত বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য অস্ত্র প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া নয়; বরং সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা।

তবে সাম্প্রতিক মোতায়েনসংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

/এএসএফ